স্বাস্থ্য জ্ঞান হেলথ টিপস

ঘরে ব্যায়াম করে ধরে রাখুন ফিটনেস – জিম করতে জিমে যেতে হবে না!

ফিটনেস

ফিটনেস ধরে রাখতে চান না, এমন কেউ নেই। আমাদের মধ্যে অনেককেই বলতে শুনবেন – “কাল থেকেই জিমে ভর্তি হচ্ছি”, অথবা “আগামী সপ্তাহ থেকে জিমে যাব”। কিন্তু খোঁজ নিলে দেখা যাবে – সেই ব্যাক্তি জিমে তো দূরের কথা, জিমের ধারে কাছেও যায়নি। তাই ইদানীং অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে কেউ জিমে যাবে বললে আমরা মুখ টিপে হাসি। কারণ জানি যে বলার মাঝেই কর্ম শেষ। আজকাল আড্ডায় কিংবা চলতে-ফিরতে কথাচ্ছলে কাউকে ঘটা করে ‘আমি জিমে যাচ্ছি’ কথাটা বলতে পারা ফ্যাশনই হয়ে গেছে।

আবার এদিকে কোনো একটা ভাবনায় প্রভাবিত হয়ে হুট করেই অনেকে জিমে ভর্তি হয়ে পড়েন। ফলাফলে দেখা যায়, খুব বেশিদিন জিমের সাথে সম্পর্কটা থাকে না। মূলত পরিকল্পনাহীনভাবে জিমে যাওয়া এবং জিমের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা উপলব্ধি না করে জিমে ভর্তি হওয়াতেই জিমের প্রকৃত উপকারটা কেউ পাচ্ছেন না। অথচ বর্তমান সময়ে নিজেকে ফিট রাখতে জিম একটি গুরুত্বপূর্ণ আইটেম হতে পারে। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে জিমে গিয়ে নিয়মিত ব্যায়াম করাটা বেশ ঝামেলার। জিম করে উপকার পাওয়ার জন্য অন্তত দিনের ৩-৪ ঘন্টা সময় জিমে কাটাতে হয়। এভাবে সময় বের করা আমাদের জন্য মুশকিল হয়ে যায়। কিন্তু এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের জন্য আছে অন্য সমাধান।

আপনি কিন্তু চাইলে কিছু ছোট খাট টুলস কিনে এনে ঘরের ভেতরেই একটা মিনি জিম বানিয়ে নিতে পারেন। অনেক সকালে ঘুম থেকে উঠে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারেন। অথবা রাতে বাড়িতে ফিরে খাওয়া দাওয়ার পরে একটু জিম করা যেতে পারে।

আপনার ঘরকে বানিয়ে ফেলুন মিনি জিম

নিশ্চয়ই ব্যামায় করার জন্য ভারি ভারি যন্ত্র কিনতে হবে বলে ভয় পাচ্ছেন? মোটেও তা নয়! ভারি যন্ত্রপাতি কিনে লাভ কি? সময় নিয়ে ঐ গুলো ব্যবহার করতে হবে, যা আমাদের নেই। তারচেয়ে সামান্য কিছু টাকা খরচ করে আপনি ছোট ছোট বিভিন্ন দরকারি টুলস কিনে নিতে পারেন যা ব্যামায় করতে কাজে লাগবে। ভাল ভাবে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারলে আপনি জিম করার চেয়ে বেশি উপকার পাবেন। টাকা খরচের কথা শুনেও অনেকে হয়ত ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু ভাই, আপনার স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য আপনাকে অনেক কিছুই করতে হবে। টাকাটা সেখানে বড় কথা নয়।

কি কি টুলস কেনা যেতে পারে?

কিছু ফিটনেস টুলসের নাম এখানে বলতে পারি যা দামে একদম কম এবং খুব সহজে ব্যবহার করতে পারবেন ঘরে বসে। টুলসগুলো হোলঃ

Exercise Mats, Exercise Balls, ANKLE WRIST BAND, Pedometers, TUMMY TWISTER, HAND GRIP, DUMBBELL, YOGA MAT, PUSH UP BARS GRIP, KNEE SUPPORT, ANKLE SUPPORT, ROPE, SOFT EXPANDER, CHEST EXPANDER, ELBOW SUPPORT, SWEAT BAND, WRIST SUPPORT, HEEL SUPPORT GEL, Steppers, Strength Training, HEAD BAND, Trampolines, ARM SLEEVE, FOAM HAND GRIP, THIGH SUPPORT

এই সকল ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে আপনি ঘরে বসে ব্যায়াম করে জিমের মত ফিটনেস ধরে রাখতে পারবেন খুব সহজেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কোথ থেকে কিনবেন? এবার আসি সেই প্রসঙ্গে।

ভালো মানের ফিটনেস টুলস পাবেন কই?

সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি সায়েন্স ল্যাব কিংবা গুলিস্তানের স্পোর্টস আইটেমের মার্কেটে চলে যান। এখানে যেকোনো দোকানে আপনি বিভিন্ন ফিটনেস টুলস কিনতে পারবেন। তবে এই সব আইটেম মানের দিক থেকে খুব একটা ভালো হয় না। বিভিন্ন ইকমার্স সাইট বা অনলাইন শপে আপনি এই সব পণ্য পাবেন। তবে দেশি সাইটের পণ্যের মান ভালো নয়। আমি নিজে এই ব্যাপারে ভুক্তভোগী। ভাল হয় যদি আপনি কোন ফরেইন ওয়েবসাইট থেকে কিনতে পারেন। অ্যামাজন, আলি এক্সপ্রেস বা ইবে তে একদম কম দামে ভালো মানের টুলস কিনতে পাবেন। অবাক করা বিষয় হচ্ছে যে এইসব অরিজিনাল টুলস দেশিও দোকান থেকে না কিনে বিদেশ থেকে কিনে আনলে খরচও পড়বে অনেক কম। ইন্ডিয়ান স্পোর্টস ৩৬০ ডিগ্রি বা খেলমার্ট থেকে অরিজিনাল টুলস কিনে আনতে পারেন চাইলে। কীভাবে কিনবেন?

কেন বিদেশী সাইট থেকে ফিটনেস টুলস কিনবেন?

ধরুন, আপনি একটি Cougar ব্র্যান্ডের Hand Grip কিনতে চান। বাংলাদেশে আপনি অরিজিনাল এই টুলস কিনতে গেলে দাম পড়বে – ২ হাজার টাকা। কিন্তু তারপরও ব্যাট আসল নাকি নকল সেটা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাবে। কিন্তু যদি অ্যামাজন থেকে এই ব্যাট কিনে আনতে চান, তাহলে আপনার দাম পড়বে ২০০০ টাকার কম!

আপনি খেলমার্ট সাইটে গিয়ে এই টুলসটি দেখুনঃ Cougar Super Hand Grip

ইন্ডিয়ান রুপিতে অরিজিনাল এই টুলের দাম মাত্র ৩০০ রুপি পড়বে। সাথে ট্যাক্স ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে ১৫০০ টাকার কম মুল্যে টুলসটি আপনি পাবেন। তাছাড়া রঙ, আঁকার, ওজন ইত্যাদি আপনি আপনার মত করে সেট করে নিতে পারবেন। অর্ডার দেবেন ঘরে বসে, টুলস চলে আসবে আপনার ঠিকানায়। কিন্তু বাংলাদেশে বসে কিনতে গেলে অনেক বেশি খরচ পড়ে যাবে। তারমানে কি দাঁড়াচ্ছে? দেশে বসে কেনাটা সাশ্রয়ী হচ্ছে। তাহলে আর দেরি কেন? অর্ডার করে নিয়ে আসুন আপনার পছন্দের টুলস আজই।

কিন্তু কি করে অর্ডার করবেন? সেই উপায়ও বলে দিচ্ছি…

কীভাবে বাংলাদেশে বসে অ্যামাজন, আলি এক্সপ্রেস বা ফ্লিপকার্ট থেকে সরাসরি ব্যাট কিনে আনবেন?

দুটি উপায় আছে!

১. মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ডের সাহায্যে পেমেন্ট করে ব্যাট কেনা।

২. বাংলাদেশি কোন আমদানিকারক সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে কেনা।

১. মাস্টারকার্ড দিয়ে কেনাঃ

আপনার, আপনার আত্মীয় বন্ধু বান্ধব বা আপনার কোন পরিচিত ব্যাক্তির যদি মাস্টারকার্ড থাকে তাহলে তার কার্ড দিয়ে অর্ডার করতে পারবেন যেকোনো পণ্য। অনেকে অবশ্য মাস্টারকার্ড দিয়ে কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে যাবেন। কারণ বাংলাদেশ থেকে মাস্টারকার্ড পাওয়া যেমন দুরূহ ব্যাপার, ঠিক তেমনি মাস্টারকার্ড এ টাকা লোড করাও বেশ ঝক্কি ঝামেলার। সরাসরি টাকা থেকে ডলারে কনভার্ট করার কোন উপায় নেই। আপনি ফ্রি ল্যান্সারদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে কার্ডে ডলার কিনতে পারবেন। তাতেও প্রতারিত হয়ার রিস্ক থেকে যায়। এই সমস্যারও সমধান রয়েছে!

বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত ভার্চুয়াল মাস্টারকার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান – কিউকার্ড। এটি মূলত একটি নিউজিল্যান্ড এর কোম্পানি। বাংলাদেশে এরা বাজারে ছেড়েছে বিশেষ ধরণের ভার্চুয়াল কিউকার্ড। এই কার্ড আপনি মাস্টারকার্ডের মত করেই ব্যাবহার করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, কার্ড দ্বারা অ্যামাজন, আলি এক্সপ্রেস বা ইবে থেকে যেকোনো পণ্য অর্ডার করতে পারবে ঘরে বসেই। তাছাড়া কার্ডে রিচার্জ করা যাবে বিকাশ কিংবা রকেট এর সাহায্যে। এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ Online payment Bangladesh

২. আমদানিকারক সংস্থা থেকে কেনাঃ

বাংলাদেশে বেশ কিছু সংস্থা আছে যারা দেশের বাইরে থেকে হোল সেল এবং রিটেইল ভিত্তিতে পণ্য আমদানি করে থাকে। তাদের সাহায্যে আপনি আপনার পন্যটি নিয়ে আসতে পারবেন। এতে খরচ কম হবে এবং নিরাপদে আনার নিশ্চয়তা থাকছে।

বাংলাদেশি ইকমার্স সাইট টপ অল ব্রান্ড এই জন্য নিয়ে এসেছে দারুণ সুযোগ। সাইটের সাহায্যে আপনি অ্যামাজন কিংবা আলি এক্সপ্রেস বা ফ্লিপ কার্ট থেকে পছন্দ করা যেকোনো পণ্য অর্ডার করতে পারেন। আপনার জন্য পণ্যটি তারা আমদানি করে এনে দেবে।

অর্ডার করতে এইখানে যানঃ Bangladesh export products

আশা করছি আর্টিকেলটি আপনাদের উপকার করতে পেরেছে। ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য।

কেন ঘরে বসে ব্যায়াম করা প্রয়োজন?

অফিসে বসে যারা ডেস্কে কাজ করেন, তারা জেনে রাখুন সারাক্ষণই ডেস্কে বসে থাকবেন না। মাঝে মধ্যে চেয়ার থেকে উঠুন। লাঞ্চের পর ১০-১৫ মিনিট একটু হাঁটাহাঁটি করুন। ফিটনেস ধরে রাখতে কাজের ফাঁকে নিজের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। যে কথা হচ্ছিল, ঘণ্টায় একবার ডেস্ক থেকে উঠে পায়চারী করে আবার বসুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ব্যক্তির ছয় বেলা খাওয়া উচিত। তিন বেলা মূল খাবার, আর তিন বেলা স্ন্যাকস। যারা দিনে ৮-১০ ঘণ্টা কাজ করেন, তাদের ব্রেকফাস্টের দিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। ব্রেকফাস্টে প্রচুর ফলমূল, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন রাখুন। এগুলো আপনাকে সারা দিন শক্তি জোগাবে। কার্বোহাইড্রেট শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। ডায়েটে কিছু প্রোটিন রাখুন। কারণ প্রোটিন কার্বোহাইড্রেটের ভাঙন প্রক্রিয়া মন্থর করে দেয়। ফলে দীর্ঘক্ষণ শক্তি সঞ্চিত থাকে। তবে রিফাইন কার্বোহাইড্রেট যেমন— কুকি, চকোলেট, মধু ইত্যাদি বর্জন করুন। রিফাইন কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে এটি শরীরে বাড়তি ইনসুলিন তৈরি করে, যা শরীরে মেদ জমার অন্যতম কারণ। লাঞ্চের সঙ্গে ব্যাগে কিছু স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক রাখুন। ভাজাপোড়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও ফল রাখা যেতে পারে। শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করা উচিত। ১ ঘণ্টা পর পর আধগ্লাস পানি পানের অভ্যাস করুন। এটি আপনাকে সতেজ ও ক্লান্তিমুক্ত রাখবে।

কীভাবে ব্যায়াম করবেন?

এবার আসা যাক ব্যায়ামের কথায়। দিনে অন্তত ২০ মিনিট হাঁটুন বা ভোরবেলা ফাঁকা পথে দৌড়ে আসুন। একদমই সময় না পেলে সপ্তাহে অন্তত দুদিন তো করতেই পারেন। সম্ভব হলে একটি চার্ট তৈরি করুন। নিয়মিত ব্যায়ামগুলো টুকে রাখুন। এক মাস পর খতিয়ে দেখুন। আপনার কতটুকু উন্নতি হয়েছে বা আদৌ হয়েছে কিনা। অনেকে দ্রুত ফিটনেস পেতে অতিরিক্ত ব্যায়াম করে ফেলেন। তবে জেনে রাখুন, দিনে ১ ঘণ্টার বেশি ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে ব্যায়াম আনন্দের সঙ্গে না করলে ফল পাওয়া যায় না।

ব্যায়াম করার জন্য যেসকল নির্দেশ মেনে কোল দরকার?

একটা কিছু করবার আগে দরকার কিছু চিন্তা-ভাবনা এবং একটা টার্গেট। নইলে ঐ করণীয় কাজটির ফলাফল মূল্যায়নটা সবসময়ই আড়ালেই থেকে যায়। তেমনি যারা নিজেদের শারীরিক ফিটনেসও সৌন্দর্য আনার জন্য নিয়মিত জিমে যাচ্ছেন অথবা যাবেন বলে ভাবছেন তাদের উচিত জিমে যাওয়ার আগে কিছু পরিকল্পনা এবং এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা। তারপর জিমে যাওয়ার লক্ষ পূরণের জন্য নিচে দেওয়া পরামর্শগুলো ফলো করতে পারেন…

  • যেকোনো জিমে ভর্তি হওয়ার পূর্বে আপনার ফিটনেসের প্ল্যানিং করে নিন।
  • অবশ্যই চেষ্টা করুন বাড়ির কাছাকাছি কোনো জিমে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করুন এতে টাইম ম্যানেজম্যান্ট খুব ভালো হবে। এ ছাড়াও জিম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সময় নিন এবং সর্বোচ্চ সেবাদানকারী কোনো জিমে ভর্তি হোন।
  • জিমে ঢুকে প্রথমেই যে কাজ টা করবেন তা হোল – জিমের ট্রেইনারের সাথে নিজের ফিটনেস গোল বা লক্ষ্য কী তা শেয়ার করুন এবং সে অনুযায়ী ট্রেইনারের দেওয়া লাইন-আপ ফলো করুন।
  • দুর্ঘটনা এড়ানর জন্য ফিটনেস এক্সপার্টের উপস্থিতিতে ফিটনেস ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করুন। কোনো ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করতে সমস্যা হলে এক্সপার্টের পরামর্শ নিন।
  • একটা ভুল অনেকেই করে – ক্যাজুয়াল ড্রেসে জিম করে। এটা ঠিক না। আপনি জিমে জন্য নির্দিষ্ট পোশাক, জুতা, টাওয়েল, ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় জিনিস বাছাই করুন এবং জিমে যাওয়ার সময় নিজের সাথে রাখুন।
  • হুট করে সময় না বাড়িয়ে আস্তে আস্তে জিমে সময় বাড়ান। এতে এক্সারসাইজের দখলটা শরীর ও মন সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে।
  • আপনি অবশ্যই জিমের ট্রেইনার বা পরামর্শক প্রদত্ত খাদ্যতালিকা সবসময় মেনে চলুন।
  • সকালে জিম করলে, জিম থেকে সরাসরি কাজে চলে না যাওয়া ভাল। প্রথমে বাসায় ফিরে কিছুক্ষণ রেস্ট নিন। তারপর আপনার অফিস বা কাজে যান।
  • সকাল-বিকাল যখনই জিমে যান না কেন টাইম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারে নজর দিন।
  • জিমে যেতে হয় নিয়মিত। খুব বেশি কাজের চাপ থাকলে চেষ্টা করুন অন্তত সপ্তাহে তিনদিন জিমে যাওয়ার।
  • অ্ঠআর একটা ভুল করবেন না কিছুতেই। জিমে যাওয়া বন্ধ করবেন না হঠাৎ করে। বরং নিয়মিত কয়েক মাস যাওয়া-আসা করুন দেখবেন এটা নিত্যদিনের কাজের একটা অপরিহার্য রুটিন হয়ে দাঁড়িয়ে।
  • জিম করাটা অনেক ধৈর্যের বিষয়। কিছু হচ্ছে না, আমাকে দিয়ে হবে না—এ জাতীয় ভাবনা না ভেবে এক্সারসাইজের প্রতি পজিটিভ মনোভাব এবং ধৈর্য রাখুন।
  • ফিটনেস ধরে রাখার জন্য নিজেকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাখুন। সাথে নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন।

ফিটনেস ধরে রাখাটা কেন আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

তবে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন যে, ফিটনেস ব্যাপারটা এক একজনের ক্ষেত্রে এক এক রকম। আপনি যদি কোন মাসল ম্যান হন তবে সেই মাসল ধরে রাখবার জন্য আপনাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪ ঘন্টা ব্যায়াম করতে হবে, তাও ফ্রি হ্যান্ড না! আপনি যদি স্বাভাবিক সহজাত ফিটনেস ধরে রাখার ব্যাপারে আগ্রহী থাকেন তবে সময়টা আসলে কোন বিষয় না। অনেকেই চাকরী, ব্যবসা করে রাতে মাত্র ৪ ঘন্টা ঘুমোলেও ঠিকই সে তার প্রতিদিনকার ব্যায়াম করার রুটিন ভাঙ্গে না। এটা আসলে আপনার সদিচ্ছা এবং সুস্থ্য থাকবার আগ্রহটাকেই প্রাধান্য দেবে।

জাগতিক জীবনে একজন মানুষের সব দ্বায়িত্ব পালন করার মত নিজের সময় ব্যবস্থাপনা করাটাও একটা মুখ্য দ্বায়িত্বের মধ্যে পরে। প্রতিদিন মাত্র ৪০ মিনিট দ্রুত হাটলেই একজন মানুষ তার স্বাভাবিক সুস্থ্যতা এবং সহজাত ক্ষিপ্রতা ধরে রাখতে পারে। এটা হতে পারে সকালে ঘুম থেকে উঠে অথবা লাঞ্চ এর সময়ে অথবা অফিস থেকে ফিরে রাতের সামান্য খাবার খাওয়ার ৪০ মিনিট পর। আমি নিজে এই সময়টাতেই হাটি। সকালে হাটতে আলসেমি লাগে, দুপুরে ঘাম হবে এত কিছু চিন্তা করা পর ভেবে দেখেছি, সুস্থ্য থাকতে চাইলে যেহেতু হাটতে হবে সেক্ষেত্রে রাত ৮ টার মধ্যে খেয়ে নিয়ে ঠিক ৮.৪০ এ বেরিয়ে পড়ি হাটতে। যেদিন কোন ভেজাল হয়ে যায় বা অফিস থেকে বের হতে দেরি হয় সেদিন একটু কম ঘুম হলেও ঠিকই হাটি বা সাইক্লিং করি। এই ৪০ মিনিট প্রতিদিন বাঁধা। শরীর সুস্থ্য রাখার ব্যাপারে কোন উদাসীনতাকেই প্রশ্রয় দেয়া উচিত না। স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।

আশাকরি আমার আজকের এই পোষ্টটি আপনাদের একটু হলেও উপকার করতে পেরেছে। পরার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

 আমাদের অসুখ বিসুখ হওয়ার একটি প্রধান কারণ হচ্ছে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব। আমরা স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করার সঠিক উপায় সম্পর্কে অবগত নই। ফলে প্রতিনয়ত আমরা নানা ধরণের ভুল অভ্যাস গড়ে তুলছি যা আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এজন্য চাই সঠিক স্বাস্থ্য পরামর্শ বা হেলথ টিপস। ই হাসপাতাল আপনার সেই প্রয়োজন বোঝে এবং ব্লগে প্রতিনিয়ত হেলথ টিপস রিলেটেড পোষ্ট প্রদান করে থাকে। আপনার বিশেষ কোন ধরণের হেলথ টিপসের প্রয়োজন হলেও, আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। 

ই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এক ঝাঁক নিবেদিত প্রান তরুণের হাত ধরে। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ হচ্ছে সকল প্রকার স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসা বিষয়ক সুপরামর্শ প্রদান করা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করে দেওয়া, প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, দুর্লভ ঔষধ সমুহের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে ই হাসপাতাল।

জরুরী মুহূর্তে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য অথবা আপনার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

ইমেইলঃ support@ehaspatal.comওয়েবসাইটঃ http://ehaspatal.com/

About the author

maroon

Add Comment

Click here to post a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।