লাইফ স্টাইল

চুল পড়ে যাওয়ার কারণ । চুলের বাড়তি যত্ন

চুল পড়ে যাওয়ার কারণ

আমাদের চুল লম্বা হোক কিংবা ছোট  হোক কম বেশি সবাই চুলে স্টাইল করতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠান অথবা ঘরোয়া কোন পার্টি সবাই চায় সবাই চায় চুলটি একটু ভিন্নভাবে বাঁধতে। আপনার সুন্দর হেয়ার স্টাইল বদলে দিতে পারে আপনার পুরনো লুক। তাই চুল আমাদের শরীরের সবার বিশেষ একটা অঙ্গ।

চুল পড়ে যাওয়ার কারনঃ

সাধারণত চুল পরে যাওয়ার অনেক কারণ থাকে তবে বিশেষ কিছু কারণ আছে যা আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলঃ

১) পারিবারিক ইতিহাসঃ যদি আপনার বাবা অথবা মায়ের কম বয়সে চুল পেকে গিয়ে থাকে, তবে আপনার ক্ষেত্রেও তা হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এই ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আসলে আপনার জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের মাঝেই বিদ্যমান থাকে।

২) সিগারেটের বিষাক্ত ধোঁয়াঃ আপনি নিজেই ধূমপান করুন বা নাই করুন অথবা বাড়ির অন্য কেউ করুক, সিগারেটের বিষাক্ত ধোঁয়া আপনার চুলের রঙে আনতে পারে পরিবর্তন। অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের চুল অকালে পেকে যাবার সম্ভাবনা আড়াই গুণ বেশি হয়।

৩)পরিবর্তন আসছে আপনার হরমোনেঃ কয়েক বছর আগের অথবা কয়েক মাস আগের নিজের একটা ছবি দেখলেই আপনি খুব সহজে বুঝতে পারবেন আপনার চুলে সময়ের সাথে পরিবর্তন আসছে। মূলত সময়ের পরিবর্তনের সাথে হরমোনে পরিবর্তন আসে বলেই এসব পরিবর্তন দেখা যায়। সাধারণত চুল পাকার পেছনেও দায়ী এই হরমোন।

৪) আপনার শরীরে একটা অটোইমিউন জটিলতা আছেঃ আমাদের শরীরে অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটা নামের একটি অটোইমিউন ডিজিজ আছে যা কিনা আমাদের ত্বক এবং চুলকে প্রভাবিত করে অনেক বেশি। এই জটিলতায় আক্রান্ত মানুষের পুরো মাথা এমনকি পুরো শরীরেই চুল পরে যেতে পারে।

৫) আপনি দূষিত পরিবেশে বসবাস করেনঃ টক্সিন এবং দূষক পদার্থ আপনার চুল খুব দ্রুত পাকিয়ে ফেলতে পারে। টক্সিন মেলানিনের উৎপাদনকে প্রভাবিত করে এবং আমাদের চুল পাকার হাড় বাড়ায়।

৬) আপনি প্রচুর স্ট্রেসের মাঝে আছেনঃ এই বিষয়টা আমরা অনেকেই বিশ্বাস করি যে স্ট্রেস এবং দুশ্চিন্তা মানুষের চুল পাকিয়ে দেয় এমনকি এতে করে মাথার সব চুল পরে যায়। অনেক সময়েই মায়েরা বলে থাকেন বাচ্চার জন্য চিন্তায় তার চুল পেকে ও পরে যাচ্ছে।

এছাড়াও আরও বিশেষ কিছু  কারণ আছে যে কারণে অল্প বয়সে আপনি হারাচ্ছেন আপনার সুন্দর ও পরিবর্তন হচ্ছে আপনার চুলের

  • প্রয়োজনীয় পরিমাণে পুষ্টির অভাব
  • শরীরে থাইরয়েডের সমস্যা
  • অ্যানিমিয়া এর কারণে
  • সঠিক যত্নের অভাব

চুলের বাড়তি যত্নঃ

এখন আপনি কিছু বিষয়ে বাড়তি যত্ন নিলে ফিরে পেতে পারেন আপনার হারানো সুন্দর চুল। আসুন এবার জেনে নাওয়া যাক বাড়তি কিছু চুলের যত্নঃ

১) যদি পারেন নিয়মিত চুলে ব্রাশ করুন। আস্তে আস্তে চুল আঁচড়ান। একটু খেয়াল রাখুন আঁচড়ানোর সময় যেন চুল না ছিড়ে।

২) আমরা সব সময় হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করি। এটা ঠিক না, হেয়ার স্প্রে বেশি ব্যবহার করবেন না।

৩) আপনার চুল যদি রুক্ষ হয় তাহলে রুক্ষ চুলে শ্যাম্পু করার অন্তত এক ঘণ্টা আগে তেল লাগান। শ্যাম্পু করার পরই গোড়া বাদ দিয়ে কন্ডিশনিং করতে ভুলবেন না।

৪) আপনি প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ বার চুলে ব্রাশ করুন। এতে করে আপনার মাথার রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে ও চুল চকচকে হবে। শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই ব্যবহৃত ব্রাশ, চিরুনি পরিষ্কার করে রাখা ভাল।

৫) অনেকেই দেখা যায় প্রচুর পরিমাণে জেল ব্যবহার করতে। অনেক বেশি জেল চুলের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকারক।

৬) নিয়মিত প্রোটিন যুক্ত খাবার খান। আপনার খাদ্য তালিকায় যেন ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ভিটামিস সি ভিটামিন ই যেন অবশ্যই থাকে।

স্বাস্থ্য সম্মত জীবন যাপন করার জন্য সঠিক লাইফস্টাইল বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। যারা পরিচ্ছন্ন লাইফস্টাইল মেনে চলে তারা স্বাস্থ্যগত অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার সুযোগ পায়। তাই সুস্থ লাইফস্টাইল গড়ে তোলার জন্য ইহাসপাতালের ব্লগটি নিয়মিত পড়ুন। সুস্থ জীবন ধারনের নিত্যনতুন টেকনিক নিয়ে নিয়মিত আমরা পোষ্ট করে যাচ্ছি শুধুমাত্র আপনার উপকারের জন্য। এই সংক্রান্ত যেকোনো জিজ্ঞাসা থাকলে আমাদের ফোন করতে পারেন। আমাদের বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য পরামর্শদাতারা আপনার সাহায্যে সর্বদা নিয়োজিত আছে।

ই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ হচ্ছে সকল প্রকার স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসা বিষয়ক সুপরামর্শ প্রদান করা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করে দেওয়া, প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, দুর্লভ ঔষধ সমুহের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে ই হাসপাতাল।

জরুরী মুহূর্তে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য অথবা আপনার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

ইমেইলঃ support@ehaspatal.com;  ওয়েবসাইটঃ http://ehaspatal.com/