স্বাস্থ্য জ্ঞান

আঙ্গুরের স্বাস্থ্য উপকারিতা । নিয়মিত আঙ্গুর ফল খান, কোলেস্টরাল কি ভুলে যান

আঙ্গুরের স্বাস্থ্য উপকারিতা । নিয়মিত আঙ্গুর ফল খান, কোলেস্টরাল কি ভুলে যান

আঙ্গুরের পরিচিতি

আঙ্গুর ফল প্রায় সবারই একটি পছন্দের ফল। সব ফলের মধ্যে আঙ্গুর ফল একটু অভিজাত বলেই গণ্য করা হয়। অন্যান্য ফলের চেয়ে আঙ্গুরের দামও বেশি। সুস্বাদু এই আঙ্গুর ফল দিয়ে ওয়াইন, রস, এবং জেলি-জ্যাম ইত্যাদি তৈরি করা ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন দেশের নানারকম মুখরোচক রান্নায় এর ব্যবহার হয়। আর  একটা কথা জানেনই তো আঙ্গুর শুকিয়ে হয় কিশমিশ, যা ছাড়া আপনার শখের খাবারগুলো একদমই বেমানান।

আঙ্গুরের ইতিহাস

প্রায় আজথেকে ৬,০০০-৪,০০০ বছর আগে পৃথিবীর পূর্বাঞ্চলের দিকে আঙ্গুরের চাষ শুরু হয়। ৪,০০০ বছর আগে জর্জিয়ায় ওয়াইন তৈরির প্রমাণ খুব ভালভাবে পাওয়া গেছে। এর মানে হল আঙ্গুর অনেক পুরানো একটি ফল ও আঙ্গুরের তৈরি খাবারের ইতিহাস অনেক কালের পুরনো। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় যে,১৩০০ শতাব্দীতে পার্শিয়ানরা ভারতীয় উপ-মহাদেশে প্রথম আঙ্গুর চাষ প্রবর্তন শুরু করেন,যা পরবর্তীতে ভারতের দক্ষিনাঞ্চলে বিস্তার আকার লাভ করে।ভারতের দক্ষিনাঞ্চলের উঞ্চ আবহাওয়ায় আঙ্গুরের চাষ হলেও এতদিন বাংলাদেশে এখনও আঙ্গুর চাষে সফল হতে পারেনি।আঙ্গুর সাধারণত বিভিন্ন প্রকারের মাটি ও আবহাওয়া জন্মাতে পারে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সবুজ ,লাল, সাদা, কালছে খয়েরি এমন নানা রঙের আঙ্গুর জন্মায়। এমনকি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে আজকাল বীচি ছাড়া আঙ্গুর জন্মানো হয়ে থাকে। সারা পৃথিবীর প্রায় ৭৫.৮৬৬ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে আঙ্গুর চাষ হয়ে থাকে। তবে মোট উৎপাদনের ৭১% ওয়াইন বানাতে,২৭% তাজা ফল হিসেবে এবং শুধু ২% শুকনো ফল হিসাবে ব্যবহার হয়। তাছাড়া কোথাও কোথাও এর পাতাও খাওয়া হয়।

আঙ্গুরের পুষ্টি উপাদান

আঙ্গুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। এগুলির মধ্যে রয়েছে বি১, সি, কে ভিটামিন অন্যতম। এছাড়াও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম ও খনিজ পদার্থ ম্যাঙ্গানিস। আঙ্গুর শুকিয়ে সাধারণত তৈরি হয় কিশমিশ এবং কিশমিশে রয়েছে ৬০ শতাংশ ফ্রুকটোজ।

আঙ্গুরের স্বাস্থ্য উপকারিতা । নিয়মিত আঙ্গুর ফল খান, কোলেস্টরাল কি ভুলে যান

আঙ্গুরের চমকপ্রদ স্বাস্থ্য উপকারিতা

১) ক্যানসার নিরাময়ে: আঙ্গুর সাধারণত আমরা জুস করে খেয়ে থাকি। আঙ্গুরের এই জুসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফামিটরির মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে, যা আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রদাহ দূর করে থাকে। সাধারণত এই প্রদাহ ক্যান্সার রোগ জন্মের অন্যতম প্রধান কারণ।

২) ত্বককে সুরক্ষিত রাখে: আঙ্গুরে মধ্যে থাকা ফাইটো কেমিক্যাল ও ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট আমাদের ত্বকের সুরক্ষায় বিশেষ কাজ করে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এটি আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৩) বয়সের ছাপে বাধা: আমাদের শরীরের ফ্রি রেডিকেলস ত্বকে বলিরেখা ফেলে দেয়। আঙ্গুরে মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এই ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমাদের ত্বক ঠিক রাখে এবং শরীরে বয়সের ছাপ পড়া প্রতিরোধ করে।

৪) কিডনির ভাল রাখতে: আঙ্গুরের সব ভিটামিন উপাদানগুলো ক্ষতিকারক ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা সহনশীল অবস্থায় রাখে। সেই সঙ্গে আমাদের কিডনির রোগ-ব্যাধির বিরুদ্ধেও কাজ করে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। এ ছাড়া আঙ্গুর আমাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রোধ করে।

৫) নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন: সাধারণত যারা রক্ত সঞ্চালনের ভারসাম্যহীনতায় ভোগেন  বিশেষ করে তাদের জন্য আঙ্গুরের জুস খুবই উপকারী। আঙ্গুরে মধ্যে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, যা আমাদের শরীরে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনে সহায়ক ও ইনসুলিন বৃদ্ধি করে থাকে।

৬) ভুলে যাওয়া রোগ নিরাময়: আমরা অনেকেই ছোট ছোট বিষয়গুলো খুব দ্রুত ভুলে যায়। আবার দেখা যায় কোনো কথা বেমালুম স্মৃতি থেকে মুছে যায়। এটি সত্যিকার অর্থে এক ধরনের রোগ। এই ভুলে যাওয়া রোগটি নিরাময়ে আঙ্গুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৭) স্তন ক্যান্সার নির্মূল: স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে আছেন যেসব নারীরা  তারা নিয়মিত খেতে পারেন আঙ্গুর। কেননা গবেষণায় দেখা গেছে আঙ্গুরের উপাদানগুলো স্তন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষের বিরুদ্ধে কাজ করতে পুরোপুরি সক্ষম।

৮) চুলের যত্নে: চুলের একটু অযত্নেই আমাদের চুল খুশকিতে ভরে যায় এমন অনেকেই আছেন। এছাড়াও দেখা যায় চুলের আগা ফেটে গিয়ে রুক্ষ হয়ে পড়ে, ধূসর রঙের হয়ে যায় এবং শেষমেশ চুল ঝরতে থাকে। এইসব সমস্যার সমাধানে আপনি আঙ্গুর খেতে পারেন।

৯) কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে: আঙ্গুরে সাধারণত টরোস্টেলবেন নামে এক ধরনের যৌগ থাকে, যা আমাদের শরীরে কোলস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

১০) শরীরের হাড় শক্ত করে: আঙ্গুরে আছে প্রচুর পরিমাণে তামা, লোহা ও ম্যাংগানিজের মতো খনিজ পদার্থ থাকে, যা আমাদের শরীরের হাড়ের গঠন ও হাড় শক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

১১) মাথাব্যথা দূর করতে: হঠাৎ করে মাথাব্যথা শুরু হয়ে গেলে আপনি ঔষধ না খেয়ে আঙ্গুর খেলে আরাম বোধ হয়।

১২) চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়: আমাদের চোখ ভালো রাখতে আঙ্গুর অনেক বেশি কার্যকর। বয়সজনিত সমস্যার কারণে যারা চোখের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য অনেক বেশি উপকারী এই ফল।

১৩) অ্যাজমা প্রতিরোধ করতে আঙ্গুর: আঙ্গুরের ঔষধি গুনাগুন অনেক। আঙ্গুরের এই ঔষধি গুণের কারণে এটি অ্যাজমার ঝুঁকি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে এবং আমাদের শরীরে ফুসফুসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়ায়।

১৪) বদহজম দূর করতে: যদি নিয়মিত আঙ্গুর খাওয়া হয় তাহলে বদহজম অনেকাংশে দূর হয়। অগ্নিমন্দ্যা দূর করতেও আঙ্গুর অনেক বেশি কার্যকর।

ধর্মীয় মতানুসারে কিশমিশের উপকারিতা

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সা. বলেছেন, তোমরা কিশমিশ বা আঙ্গুর খেতে একটুও অবহেলা করো না কেননা এই আঙ্গুর ও কিশমিশ আমাদের দেহমন ভাল রাখে । আঙ্গুর আমাদের স্নায়ুতন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং দুর্বল দেহকে চাঙ্গা করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তার আগে খালি পেটে বীচি ছাড়া আঙ্গুর হতে তৈরি ২১টি কিশমিশ খেলে শারীরিক দুর্বলতা এবং আল জাইমার রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়।

ইরানের স্বাস্থ্য চিকিৎসা বিষয়ক ওয়েব সাইটে প্রকাশিত একটা নিবন্ধে বলা হয়েছে যে, বীচিবিহীন আঙ্গুর থেকে যে কিশমিশ তৈরি হয় তা ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আছে । এই জাতীয় কিশমিশ আমাদের রক্তনালীগুলোকে ফ্রি রেডিক্যাল থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, আমাদের রক্তনালীগুলোর কোমলতা বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আঙ্গুর থেকে যে সব জিনিস বানানো হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো সিরকা।

স্বাস্থ্য সম্মত জীবন যাপন করার জন্য সঠিক স্বাস্থ্যজ্ঞান থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। যাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান আছে তারা স্বাস্থ্যগত অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার সুযোগ পায়। তাই সঠিক স্বাস্থ্যজ্ঞান আহরনের জন্য ইহাসপাতালের ব্লগটি নিয়মিত পড়ুন। স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ, রোগ হলে করনীয়, রাোগমুক্ত হওয়ারা উপায় স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত আমরা পোষ্ট করে যাচ্ছি শুধুমাত্র আপনার উপকারের জন্য। এই সংক্রান্ত যেকোনো জিজ্ঞাসা থাকলে আমাদের ফোন করতে পারেন। আমাদের বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য পরামর্শদাতারা আপনার সাহায্যে সর্বদা নিয়োজিত আছে।

ই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ হচ্ছে সকল প্রকার স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসা বিষয়ক সুপরামর্শ প্রদান করা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করে দেওয়া, প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, দুর্লভ ঔষধ সমুহের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে ই হাসপাতাল।

জরুরী মুহূর্তে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য অথবা আপনার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

ইমেইলঃ support@ehaspatal.com;  ওয়েবসাইটঃ http://ehaspatal.com/