খাবারের গুনাগুন

শীতের পিঠা । মজাদার ও লোভনীয় ঘরোয়া পিঠার পরিচিতি

শীতের পিঠা । মজাদার ও লোভনীয় ঘরোয়া পিঠার পরিচিতি

বাংলার পিঠার পরিচিতি

আমাদের দেশে শীতের পিঠা-পুলি বাঙালির আদি খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। বাংলার চিরায়ত লোকজ খাদ্যসংস্কৃতিতে পিঠা-পায়েস আদিকাল থেকেই একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। প্রতিবছরই আমাদের দেশে শীতকালে দেশজুড়ে পিঠা তৈরির ব্যস্ততা চোখে পড়ে। তবে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাড়িতে বাড়িতে ধুম পড়ে যায় পিঠা বানানোর। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা সন্ধ্যায় গাঁয়ের বধূরা চুলোর পাশে বসে পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পরেন। অতিথি, বিশেষ করে জামাইদের দাওয়াত করে পিঠা খাওয়ানো হয়ে থাকে। আর এখন শুধু গ্রামে নয়, গ্রামের পাশাপাশি শহরেও পাওয়া যায় শীতের পিঠার সুবাস।

শীতের যত পিঠা

বাংলাদেশের শীতের সবথেকে বড় আমেজ হল পিঠা খাওয়া। তাই এখন শুধু গ্রামে নয় শহরেও প্রচুর পিঠা পাওয়া যায়। আসুন এবার একটু জেনে নাওয়া যাক বাংলাদেশের পরিচিত কিছু পিঠার নামঃ 

১) চিতই পিঠা, ২) চুটকি পিঠা, ৩) পাটিসাপটা, ৪) ছাঁচ পিঠা, ৫) নকশি পিঠা, ৬) নারকেল পিঠা, ৭) ছিটকা পিঠা, ৮) চাপড়ি পিঠা, ৯) পাকন পিঠা, ১০) ছিট পিঠা, ১১) সুন্দরী পাকন, ১২) সরভাজা, ১৩) পুলি পিঠা, ১৪) পাতা পিঠা, ১৫) পাকান / তেল / পোয়া পিঠা, ১৬) পানতোয়া, ১৭) পুডিং, ১৮) মালপোয়া, ১৯) মেরা পিঠা, ২০) মালাই পিঠা, ২১) মুঠি পিঠা, ২২) আন্দশা, ২৩) কুলশি, ২৪) কাটা পিঠা, ২৫) কলা পিঠা, ২৬) খেজুরের পিঠা, ২৭) ক্ষীর কুলি, ২৮) গোকুল পিঠা, ২৯) গোলাপ ফুল পিঠা, ৩০) লবঙ্গ লতিকা, ৩১) রসফুল পিঠা, ৩২) জামদানি পিঠা, ৩৩) হাঁড়ি পিঠা, ৩৪) ঝালপোয়া পিঠা, ৩৫) ঝুরি পিঠা, ৩৬) ঝিনুক পিঠা।

শীতের  মজাদার ও লোভনীয় ঘরোয়া পিঠা

১) নকশী পিঠা

উপকরণ: ময়দা ১ কেজি, ডিম ৪টি, মুগডাল বাটা আধা কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, চিনি ২ কেজি, পানি ১ কেজি, এলাচ ৪টি, দারুচিনি ৪ টুকরা, তেল পরিমান মতো (ডুবো তেলে ভাজার জন্য)।

প্রণালী: প্রথমে চিনি ও পানি দিয়ে সিরা করে নিতে হবে। তারপর মুগডাল সিদ্ধ করে বেটে নিন ভাল করে। এবার ময়দা সিদ্ধ করে তার সঙ্গে ডিম, ঘি, ডাল, দিয়ে ভালো করে ময়ান তৈরি করুন। এরপর আপনি এক ইঞ্চি মোটা করে রুটি বানিয়ে নকশা করে কেটে ডুবো তেলে ভাজুন। এবার এক এক করে চিনির সিরায় পিঠাটা ভিজিয়ে দিন। তারপর ঠাণ্ডা হলে পরিবেশন করুন।

২) দুধ পুলি পিঠা

উপকরণঃ আড়াই কাপ চালের গুঁড়া, ১ কাপ চিনি (স্বাদ মতো), ১/৩ কাপ গুঁড়াদুধ (ইচ্ছা), আধা কাপ ময়দা, দেড় কাপ পানি, আধা চা-চামচ লবণ, আধা চা-চামচ ঘি, দুধ দেড় কেজি, ৪ টেবিল-চামচ কনডেন্সড মিল্ক, দেড় কাপ নারিকেল কুড়ানো, এলাচ ২,৩টি।

প্রণালীঃ প্রথমে পিঠার ভেতরে পুরের জন্য দেড় কাপ নারিকেল কুড়ানো (সামান্য রেখে দিতে হবে পরে দুধের মধ্যে দেওয়ার জন্য)। এরপর বাকি নারিকেলের সঙ্গে পাঁচ থেকে ছয় চামচ চিনি দিয়ে ফ্রাইপ্যানে সাত থেকে আট মিনিট ভেজে নিতে হবে খুব ভালভাবে (নারিকেলের পানি শুকাতে যতক্ষণ লাগে) এই পুর পিঠার ভেতরে দিতে হবে।

আপনি চাইলে দুধের সঙ্গে গুঁড়াদুধ, চিনি, কনডেন্সড মিল্ক আর এলাচ মিশিয়ে জ্বাল দিন। পিঠা বানানো হতে হতে দুধ খুব সুন্দর জ্বাল হয়ে হালকা রং হতে হবে। এরপর অন্য পাতিলে পানির সঙ্গে লবণ এবং ঘি দিয়ে গরম করুন। হালকা ফুটানো পানির সঙ্গে চালের গুঁড়া ও ময়দা দিয়ে খুব ভালো করে কিছু সময় ধরে মিশিয়ে নিয়ে চুলা বন্ধ করে দিয়ে খামির করতে হবে।

এখন আপনি খামিরটা ১০ ভাগ করুন। এবার এক একটি ভাগ দিয়ে ছোট ছোট রুটি বেলে অথবা হাত দিয়ে চেপে পাতলা করে ভিতরে নারিকেলর পুর দিয়ে একটি একটি করে পুলিপিঠা তৈরি করুন। এভাবে আস্তে আস্তে সব পিঠাগুলো তৈরি করে নিন। এখন বানানো সব পুলিপিঠা, ফুটিয়ে রাখা দুধের মধ্যে দিয়ে চুলার আঁচ বা জ্বাল কম রেখে ১০ মিনিট ধরে রান্না করতে হবে।এরপর হাঁড়ি আস্তে ঝাঁকিয়ে পিঠার সঙ্গে দুধ মিশিয়ে নিন। ১০ মিনিট ধরে রান্নার পর কুড়ানো নারিকেল দিয়ে আরও দুই থেকে তিন মিনিট রান্না করে নামিয়ে পাত্রে ঢেলে আপনি এখন পরিবেশন করুন মজাদার দুধ পুলি পিঠা।

৩)  চিতই পিঠে:

উপকরণঃ আতপ চাল ৪ কাপ, নলেন গুড় ১/২ কেজি, নারকেল কোরানো ১/২ কাপ, নারকেল দুধ ১ কাপ, লবণ পরিমান মতো, পানি ৮ কাপ৷

প্রণালীঃ প্রথমে আপনি চাল চার ঘণ্টা ভিজিয়ে ভালো করে গুঁড়ো করে নিন আর গুঁড়ো করার অসুবিধা থাকলে বাজার থেকে কিনেও আনতে পারেন৷ এরপর নারকেল কোরানো থেকে সামান্য পানি মিশিয়ে থকথকে পেস্টের মতো বানিয়ে নিন৷ এবার তাতে চালের গুঁড়ো ও সামান্য লবন দিয়ে পেস্টটাকে কিছু সময় ধরে নাড়ুন৷ আপনি ফ্রায়িং প্যানে সাদা তেল বা ঘি গরম করে গোল চামচে করে তারপর মিশ্রণটি রেখে ঢেকে দিন৷ মাঝারি আঁচে কিছু সময় রেখে নামিয়ে নিন৷

নলেন গুড় ও পরিমান মতো ৬ কাপ পানি একসাথে ফুটিয়ে রস বানাতে হবে। এরপর আপনি পিঠেগুলো ওই রসে ফেলে পাঁচ মিনিট জ্বাল দিয়ে নামিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। কয়েকঘণ্টা বা ৭-৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে পরিবেশন করুন সুস্বাদু চিতই পিঠে৷ সঙ্গে আপনি কোরানো নারকেল এবং ঝোলাগুড় দিতে ভুলবেন না কিন্তু।

৪) নারকেলের পুলি পিঠা

উপকরণঃ নারকেল ১টি, চালের গুঁড়া, ময়দা সোয়া কাপ, পানি ১ কাপ, আধা কেজি, চিনি ১ কাপ,  লবণ স্বাদমতো, তেল পরিমান মতো৷

প্রণালীঃ প্রথমে ১টি নারকেল পুরোপুরি কুড়িয়ে নিন। এবার আপনি কড়াইয়ে নারকেল ও চিনি এক সঙ্গে দিয়ে পুর তৈরি করে নিন। এবার পরিমান মতো পানি ফুটিয়ে চালের গুঁড়া ও ময়দা দিয়ে খামির তৈরি করে নিন। চালের গুঁড়া ভালভাবে সিদ্ধ হলে নামিয়ে ভালো করে মেখে নিন। এবার আপনি ছোট ছোট লেচি কেটে পুর ভরে মুখ বন্ধ করে পুলি বানিয়ে নিন। বানানো শেষ হয়ে গেলে তেল গরম করে কড়াইয়ে ডুবো তেলে ভাজুন।

শীতের পিঠা । মজাদার ও লোভনীয় ঘরোয়া পিঠার পরিচিতি

৫) ভাপা পিঠা

উপকরণঃ চালের গুঁড়া ১ কেজি, গুড় আধা কেজি, নারকেল কোরানো ১ কাপ, পানি আধা কাপ, লবণ সামান্য।

প্রণালীঃ  প্রথমে আপনি অ্যালুমিনিয়াম বা মাটির পাত্রের মুখে কাপড় বেঁধে পানি পুরোপুরি ভরে চুলায় বসান। এবার চালের গুঁড়া একটু লবণ দিয়ে কুসুম গরম বা হালকা গরম পানি দিয়ে মেখে চালুনি দিয়ে চেলে নিন। প্রথমে ছোট বাটিতে প্রথমে চালের গুঁড়া এরপর গুড় দিয়ে তার ওপরে নারকেল দিয়ে আবার চালের গুঁড়া দিয়ে দিন। পাতলা সাদা কাপড় বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে পিঠাটা মুড়ে ভাপা পিঠার পাত্রের পানি ফুটে উঠলে তার উপর বসিয়ে দিয়ে বাটিটি উঠিয়ে নিয়ে পিঠাটা কাপড় দিয়ে ভালোমতো ঢেকে দিন। উপরে একটা ঢাকনা দিয়ে দিন। যেন গরম ভাবটা না বের হতে পারে। ৫ মিনিট পর বা তার কিছু সময় পর পিঠা নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

৬) দুধ চিতই

আতপ চালের গুঁড়া ৩ কাপ, দুধ ২ লিটার, পানি ১ লিটার, খেজুরের গুড় ১ কেজি, লবণ পরিমান মতো, এলাচ ৪/৫ টুকরা।

প্রণালীঃ প্রথমে পাত্রে পানি ও গুড় জাল দিন। তারপর দুধ মিশিয়ে আরও ৩০ মিনিট আগুনে রাখুন। এবার পরিমান মতো পানি, চালের গুঁড়া ও সামান্য লবণ মিশিয়ে মাঝারি বা হালকা ঘনত্বের গোলা বানিয়ে নিন। পিঠাগুলো তৈরি করার জন্য লোহার কড়াই ব্যবহার করা ভাল। কড়াইটি প্রথমে তেল দিয়ে মুছে মুছে চালের গুড়োর গোলা ঢেলে গোল গোল পিঠা তৈরি করে নিন। এবার আপনি আগের তৈরি করা গুড়ের সিরায় পিঠাগুলো দিয়ে একবার বলক এলেই চামচ দিয়ে সাবধানে নেড়ে দিন। পিঠা তৈরি হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে সারা রাত এভাবেই ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে পরিবেশন করুন।

৭) আলসী পিঠে:

উপকরণঃ চালের গুঁড়ো ২ কাপ, ডিম ৪টি ফেটানো বা সিদ্ধ করা, নারকেল কোরানো ১ কাপ, চিনি ১কাপ, মিল্ক পাউডার ১/২ কাপ, এলাচ গুঁড়ো ১/২ চা চামচ, পানি ১ কাপ, কিসমিস ৬/৭টা, ঘি ১ টেবিল চামচ৷

প্রণালীঃ  প্রথমে একটি পাত্রে অল্প আঁচে চালের গুঁড়ো ২-৩ মিনিট ঘিয়ে ভালভাবে ভেজে তুলে রাখুন৷ পরিমান মতো কিসমিস এবং ঘি বাদে অন্যান্য সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে ঢেলে মিশিয়ে নিন৷ একটি বেকিং পাত্রের গায়ে পুরোটা ঘি লাগিয়ে নিয়ে তাতে মিশ্রনটি এবার ঢালুন এবং ২০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট উষ্ণতায় ১ ঘণ্টা বেক করুন৷ তবে আপনি মাঝে মাঝে ওভেন বন্ধ করে একটু দেখতে হবে হয়েছে কিনা৷ তবে আপনাকে অন্তত আধ ঘণ্টা ব্রেক করতেই হবে৷

৮)  রস চিতুই বা রসের পিঠা

উপকরণঃ চালের গুঁড়া ৪ কাপ, দুধ ১ লিটার, গুড় ২ কাপ, কোরানো নারকেল আধা কাপ।

প্রণালীঃ প্রথমে আপনি দুধ জাল দিয়ে ঘন করে আলাদা করে গুড়ের সিরা তৈরি করে রাখতে হবে। এবার হালকা গরম বা কুসুম গরম পানিতে গুঁড়া গুলে পাতলা গোলা তৈরি করতে হবে। এবার আপনি মাটির খোলায় গোলা ঢেলে পিঠা তৈরি করতে হবে। একটা নির্দিষ্ট সময় পর পিঠা ঠাণ্ডা হলে জ্বাল দেওয়া রসে ভিজিয়ে রাখতে হবে সারারাত! সকালে চাইলে আপনি পরিবেশন করতে পারেন রস চিতুই বা রসের পিঠা।

৯) ক্ষীর ও ডিমের পিঠা

উপকরণঃ দুধ, চিনি, ক্ষোয়াক্ষীর, ময়দা, এলাচ গুড়া, ডিমের সাদা অংশ, ঘি সব কিছুই দিতে হবে পরিমান মত।

প্রনালীঃ প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে সামান্য দুধ নিয়ে চিনি, ক্ষোয়াক্ষীর, ডিমের সাদা অংশ, ময়দা, এলাচ গুড়া ও সামান্য পানি দিয়ে ভাল করে গুলিয়ে নিন কিছু সময়। এবার আপনি তাওয়ায় ঘি মাখিয়ে বেশ গরম করে গুলানো ময়দা হাত দিয়ে তাওয়ায় ছড়িয়ে দিন। এপিঠ ওপিঠ  করে ভালভাবে ভেজে তাওয়া থেকে উঠিয়ে অন্য পাত্রে রেখে চিনি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন মজাদার ক্ষীর ও ডিমের পিঠা।

১০) পাকা কলার পিঠা

উপকরণঃ ময়দা, দুধ, পাকা কলা, চিনি, ডিম ও ঘি এই সব কিছু হতে হবে পরিমান মতো।

প্রনালীঃ প্রথমে নির্দিষ্ট পরিমান মত পাকা কলা নিয়ে লম্বা লম্বা করে কেটে পরিষ্কার একটা পাত্রে রাখুন। যেমন ধরুন ১ টি কলা চার ভাগ হবে। এবার অন্য একটি পরিষ্কার পাত্রে দুধের সাথে ময়দা ও ডিম দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। তারপর কড়াইয়ে ঘি দিয়ে একটি একটি করে কলার পিচ নিয়ে ময়দার গোলায় ভালভাবে চুবিয়ে ভেজে নিন। এবার চিনির রসে ডুবিয়ে তুলে মজাদার এই পিঠাটি সবার জন্য পরিবেশন করুন।

১১) নারকেলের তিল পুলি

উপকরণঃ কুরানো নারকেল ২ কাপ, ভাজা তিলের গুঁড়া আধা কাপ, খেজুরের গুড় ১ কাপ, আতপ চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, এক চিমটি এলাচ গুঁড়া, দারচিনি ২-৩টা,আতপ চালের গুঁড়া ২ কাপ, পানি দেড় কাপ, লবণ স্বাদ মতো বা পরিমান মতো, ভাজার জন্য তেল দুই কাপ।

প্রনালীঃ প্রথমে কুরানো নারকেলে গুড় দিয়ে ১৫-২০ মিনিট রান্না করতে হবে। মিশ্রণটি একটু শক্ত হয়ে এলে এলাচ, তিল ও চালের গুঁড়া ছড়িয়ে আরও কিছু সময় রান্না করতে হবে। তেল উঠে পুর যখন পাকানোর মতো শক্ত হবে, তখন মিশ্রণটি নামিয়ে ঠান্ডা করে লম্বাভাবে সব পুর বানিয়ে রাখতে হবে। তারপর চালের গুঁড়া সেদ্ধ করে ভালোভাবে চুলার আঁচ কমিয়ে ভালভাবে নাড়তে হবে, যাতে খামিরে কোনো রকম চাকা না থাকে। মিশ্রণটি একটু ঠান্ডা হলে পানি ছিটিয়ে ভালো করে ছেনে রুটি বানাতে হবে। রুটির এক কিনারে এক পাশে পুর রেখে বাঁকানো চাঁদের মতো উল্টে পিঠে আটকে দিতে হবে। এবার টিনের পাত বা পুলিপিঠা কাটার চাকতি দিয়ে সুন্দর করে কেটে নিতে হবে। এরপর গরম তেলে মচমচে করে ভাজতে হবে।

১২) চন্দ্র পুলি

উপকরণঃ  নারকেল ৩টি, চিনি ৩ পোয়া, দুধ  ২ কেজি, গুড় ১/২ কেজি, ময়দা ১ কেজি, তেল পরিমান মত।

প্রনালীঃ প্রথমে আপনি নারিকেল মিহি করে কুরে নিন। কুরানো অর্ধেক পরিমান নারিকেল আবার শিল পাটায় আরও মিহি করে বেটে নিন। বাকি অর্ধেক নারিকেলের সঙ্গে আপনি গুড় জ্বাল দিয়ে হালুয়ার মত করে পুর বানিয়ে নিন। এবার হালুয়া শুকিয়ে চটচটে হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন। এবার একটি পরিষ্কার পাত্রে ঘন করে দুধ জ্বাল দিয়ে নিন।

তারপর পাটায় মিহি করা নারিকেল ও চিনি মিশিয়ে ময়দা দিয়ে কাই করে নিতে পারেন। এরপর রুটি বেলে নারিকেলের পুর ভরে বাঁশের চটা দিয়ে অর্ধচন্দ্রাকারে বা অর্ধগোলাকারে কেটে নিন। চন্দ্রপুলি ডুবো ডুবো তেলে ভাল করে ভেজে নিন। ভাজা শেষ হয়ে গেলে গরম গরম এই মজাদার ও সুস্বাদু চন্দ্রপুলি পরিবারের সবাইকে পরিবেশন করুন।

১৩) ছিটা পিঠা

উপকরণঃ চাউলের গুড়া, আদা বাটা, পেয়াজ বাটা, ডিম ও তেল এই সব কিছু হতে হবে পরিমান মতো।

প্রনালীঃ প্রথমে চাউলের গুড়ার মধ্যে আদা বাটা, পেয়াজ বাটা দিয়ে হালকা ঘন করে মাখিয়ে নিতে পারেন। এবার ফ্রাই প্যান হালকা তেল দিয়ে মুছে দিতে পারেন। তারপর আপনি আটার মধ্যে হাত দিয়ে কয়েক বার গুলানো চাউলের গুড়া ফ্রাই প্যানে পরিমান মতো ছিটিয়ে দিয়ে রুটির মত করে আঁচ দিন। আপনি চাইলে রুটি গুলো ৩ কোনা ভাজ করে নামিয়ে ফেলতে পারেন। তারপর মুরগীর মাংস বা যেকোনো মাংস দিয়ে আপনি চাইলে পরিবেশন করতে পারেন।

১৪) গাজর কপি পাটিসাপটা

উপকরণঃ চালের গুঁড়া সিকি কাপ, গাজরকুচি ১ মুঠো, চিনি ১ কাপ, ফুলকপি ১টি, মুঠো ময়দা ১ কাপ, খেজুরের রস ১ কাপ,, নারকেলের কোরা ২ মুঠো।

প্রনালীঃ প্রথমে আপনি উপকরণগুলো সব দিয়ে গোলা তৈরি করতে হবে। তারপর কড়াই গরম করে ফেলুন। এরপর আপনি প্যানে সামান্য ঘি লাগিয়ে ১ হাতা করে গোলা দিয়ে পাটিসাপটা রুটি বানিয়ে তার মধ্যে পুর দিয়ে ভাঁজ করে নামিয়ে নিতে হবে। এভাবে সব বানিয়ে সার্ভিং ডিশে রেখে খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে ঘন করে পিঠার ওপর দিয়ে দিতে হবে। তারপর আপনার বানানো গাজর কপি পাটিসাপটা পরিবারের সবাইকে পরিবেশন করুন।

১৫) নতুন গুড়ের ফিরনি

উপকরণঃ দুধ ১ লিটার, পানি ১ কাপ, পোলাওয়ের চাল ১ মুঠ, গুড় (কুচি কুচি করে নেওয়া) আধা কাপ, মাওয়া আধা কাপ, নারকেল কুড়ানো আধা কাপ, বাদাম সাজানোর জন্য।

দুধ ও পানি জ্বাল দিয়ে নিন। বলক এলে অল্প অল্প করে চাল দিয়ে নেড়ে নেড়ে মিলিয়ে নিতে হবে। চাল ও দুধের মিশ্রণ যেন দলা না হয়। এবার এতে নারকেল মিশিয়ে অল্প আঁচে নেড়ে নেড়ে চাল সেদ্ধ করে নিতে হবে। সেদ্ধ হয়ে এলে ১ টেবিল-চামচ চিনি দিয়ে জ্বাল করে গুড় মেলাতে হবে। গুড় মিলিয়ে নেড়ে নেড়ে ঘন হয়ে এলে মাওয়া মিশিয়ে নামাতে হবে।

ভিন দেশের অন্য পিঠা

সীমিত অর্থে বা সাধারণ অর্থে যেসব খাবার চালের গুড়া ও গুড় দিয়ে বানানো হয় তাকেই পিঠা বলে। কিন্তু বর্তমান সময়ে ময়দা বা আটা ও চিনি ও অন্যান্য উপাদান দিয়েও পিঠা বানানো হচ্ছে। তার ফলে ইউরোপ আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য কিছু দেশের খাবারকেও পিঠা হিসেবে চিহ্নিত করা চলে। সে অর্থে পিঠা আমাদের দেশের প্রাচীন এক ঐতিহ্য হলেও পিঠা খাওয়ার এই রেওয়াজ বা উঠসব শুধু আমাদের নয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো ভারত, নেপাল, ভুটান, তিব্বত ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা সহ আরও অনেক দেশেই রয়েছে এই ধরনের খাবারের প্রচলন।

আমাদের মধ্যে খুব কম মানুষ রয়েছেন যারা খাবারের গুণাগুণ বিচার করে খাবার খেয়ে থাকেন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোন খাবারগুলি থাকা উচিত, সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান যৎসামান্য। ফলে আমরা খাবার খাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু সেই খাবার আমাদের পুষ্টির চাহিদা সঠিকভাবে পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে না। আমরা অনেকেই এটাও জানি না যে সঠিক খাদ্যগ্রহনের মাধ্যমে শরীরের অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে ইহাসপাতাল ব্লগে আমরা প্রতিনিয়ত খাবারের গুণাগুণ জানিয়ে পোষ্ট করে থাকি। আর বিস্তারিত কিছু জানার জন্য ই হাসপাতালে ফোন করতে পারেন।

ই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ হচ্ছে সকল প্রকার স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসা বিষয়ক সুপরামর্শ প্রদান করা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করে দেওয়া, প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, দুর্লভ ঔষধ সমুহের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে ই হাসপাতাল।

জরুরী মুহূর্তে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য অথবা আপনার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

ইমেইলঃ support@ehaspatal.com;  ওয়েবসাইটঃ http://ehaspatal.com/

About the author

maroon

1 Comment

Click here to post a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।