ডায়েট

শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে পারেন কিছু ডায়েট এর মাধ্যমে, যা আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল

শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে পারেন কিছু ডায়েট এর মাধ্যমে, যা আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল

প্রথমেই জানুন ডায়েট কি?

মেদ ভুঁড়ি কিংবা একটু বাড়তি ওজন আমাদের জন্য একটু চিন্তার বিষয়। আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগে কী করলে ওজন কমবে, কী না খেলে ওজন কমবে, কোন খাবার ওজন কমায়, ডায়েট করতে চাইলে কীভাবে করতে হবে এসব ভেবে ঘন্টার পর ঘণ্টা আমাদের সময় পার হয়ে যায়।অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ছিপছিপে গড়নের শরীর কে না চায় বলেন? কিন্তু চাইলেই তো আর হবে না বা পাউয়া যাবে না।

তার জন্য সবসময় চাই প্রচেষ্টা আর একটানা উদ্যোগ। আর আপনাদের সেই উদ্যোগ কে আর এক ধাপ এগিয়ে আজকে আমরা আপনাকে কিছু টিপস দিব, যা আপনাদের শরীরের ডায়েট করতে সুবিধা হবে অনেক। আজকে আপনাদের জন্য এমন কিছু নিয়ম বলে দিব বা চার্ট দাউয়া হবে যার সাহায্যে মাসে ৫ কেজি পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব এবং খুব সহজেই পরিমিত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ্য গতিতে আপনার শরীরের এই ওজন কমানো সম্বব খুব ভালভাবেই।

কিছু খাবারের দিকে নজর দিন, যা আপনার শরীরকে ডায়েট করতে সাহায্য করবে

বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ডায়েট করে ওজন কমাতে গিয়ে বাদ দিতে হয় আমাদের পছন্দের খাবার। সেই খাবারের পরিমাণও খুব থাকে কম। ডায়েট না করেই আমরা শরীরের মেদ ও ওজন কিছু খাবারের মাধ্যমে কমাতে পারি।আমাদের খাবারের তালিকাতে কিছু খাবার আছে যেগুলো আমাদের শরীরের চর্বি বা মেদ কাটাতে অনেক সাহায্য করে থাকে। বিশেষ করে পেটের মেদ কমাতে উপকারী এইসব খাবার সম্পর্কে আপনার জানা থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণে আপনার অনেক সুবিধা হয়। আমাদের শরীরের ওজন কমাতে আমরা কত কিছুই না করে থাকি! প্লেটে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে যদি আমরা কিছু সবজি যেমন শশা, গাজর আর সুপ খেয়েই কাটিয়ে দিই দিনের পর দিন। তারপরও দেখা যায় যে এত কষ্টের ফলাফল ওজন মেশিন খুব সহজে দিতে চায় না বা খুব ওজনের তারতম্য হয় না।

ডায়েট শুরুর প্রথম দিকে দেখা যাই যে চটপট করে ওজন কমলেও একটা সময় পর ওজন হ্রাসের গতি কমে আসে। হতাশা নিয়ে অনেকে আবিষ্কার করেন বা মনে করে থাকেন যে, ওজন তো কমছেই না বরং দীর্ঘদিন থেকে সুপ আর শশা খাওয়ার ফলে শরীরে দেখা দিচ্ছে অপুষ্টি এবং খুদামন্দা এতে করে মুখের রুচি কমে যাচ্ছে বলে মনে হয়। আরও কিছু সমস্যা দেখা যায় তার মধ্যে চুল পড়ে যাচ্ছে, চামড়া শুষ্ক হয়ে পড়ছে, আর চেহারায় লাবণ্য নেই বললেই চলে। বয়সের সাথে সাথে আমাদের পেশী ক্ষয় হয় আর সাধারণ ডায়েট করার কারনে অর্থাৎ খাবার কম খাওয়ার কারণে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। কিন্তু ওভারনাইট ডায়েটে এই ব্যাপারটিকে পুরোপুরি রোধ করার ব্যবস্থা রয়েছে।

শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে পারেন কিছু ডায়েট এর মাধ্যমে, যা আপনাদের সামনে তুলে ধরা হল

শরীরে যখন লিন মাসল বেশি থাকে তখন শরীরে মেদ জমার তেমন সুযোগ পায় না। আবার দেখা যায় যে ওভারনাইট ডায়েট এর কারনে এমন মাসলের পরিমাণ ঠিক রাখার জন্য যেমন নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রোটিন খাউয়া জরুরি, তেমন ভাবেই নির্দিষ্ট পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট খাওয়ারও সুযোগ আছে অনেক। ফলে দেখা যায় স্বাস্থ্যকর উপায়ে শরীরের মেদ দূর হয়ে খুব সহজেই আপনার শরীরের ওজন কমে যায়। ডায়েটের একটি দিন যদি আপনি শুধুমাত্র স্মুদি পান করতে হয় তাহলে এর অনেক উপকার আছে, যেমন- এটি আমাদের শরীরে ইনসুলিন উৎপাদনের মাত্রা ভীষণভাবে কমিয়ে দিয়ে আপনাকে সুস্থ রাখে।এর ফলে আপনার শরীরের পেট ও কোমরের আশেপাশের মেদ কমে যায় অনেকটা।এমনকি সারা সপ্তাহ ধরেই এসব জায়গায় মেদ ঝরার প্রক্রিয়া অব্যহত থাকে। শুধু তাই নয় এর আরও অনেক গুনাগুণ আছে, ইনসুলিন কমে যাবার ফলে বেশ কিছু রোগের ঝুঁকি কমে আর সবথকে বড় কথা হল এটির ফলে আমাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত পানির পরিমাণটা কমে যায়।

এবার আসুন খাবারের দিকে যা আপনার শরীরের মেদ বা চর্বি কমাতে বাঁধা সৃষ্টি করছে

১। চিনি কম নয়, চিনি পুরোপুরি ভাবেই বাদঃ আপনার প্রতিদিনের সব শর্করা জাতীয় খাবারের চাহিদা থেকে চিনিকে বদলে ফেলুন। সেখানে যোগ করুন মধু। এর পাশাপাশি আপনাকে কৃত্রিম মিষ্টির উপাদানও বাদ দিতে হবে। আপনি যদি পারেন চায়ে-কফিতে-খাবারে চিনি বাদ।

২। আর নয় জাঙ্ক ফুডঃ বার্গার আসলেই কি জাঙ্ক ফুড? কিংবা নাগেট? এমনতর হাজারো মুখরোচক ফাস্ট ফুড জাতীয়  খাবার রয়েছে যা আপনার শরীরের বারোটা বাজাচ্ছে। কোন খাবারটা ছাড়বেন, সেটা আসলে বড় কথা নয়। মোদ্দা কথা, প্রসেসড বা প্রসেস করা এসব খাবার ছাড়তে হবে।

৩। চালে-গমে খেয়াল রাখবেনঃ ঝকঝকে চকচকে চাল, যা থেকে খুব শিউলি-সাদা ভাত হবে; দেখতে ভালো, খেতেও ভাল।দেকতে আর খেতে ভাল হলেই সব ভাল হয় না।এতে করে আপনার রক্তে সমস্যা বাড়াবে। ব্লাড সুগারের মাত্রা অনেকাংশে বেড়ে যাবে আর শেষ পর্যন্ত এর প্রভাবটা গিয়ে পড়বে আপনার মেদের উপর। আটার ক্ষেত্রেও একই কথা কিন্তু! এটি স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিরাপদ।

৪. প্রোটিন খান কিন্তু হিসাব করে খান: খাবারের মধ্যে থাকা প্রোটিন আপনার শরীরের জন্য অতি দরকারি, কিন্তু তা হিসাবমতো বা লিমিটেড। বাড়তি প্রোটিন কখনোই আপনার শরীরের জন্য ভাল হবে না। এ ক্ষেত্রে হিসাব করে খাবার খেলেই মাত্রার মধ্যে প্রোটিন গ্রহণের বিষয়টা নিশ্চিত করা যাবে।

৫। ফলের পরিমাণঃ ফল খাওয়া আপনার শরীরের জন্য খুবই ভালো। কিন্তু খেয়াল রাখাটা অবশ্যই জরুরি অধিকাংশ ফলেই কিন্তু চিনি বা শর্করার পরিমাণটা অনেক বেশি থাকে, যা আপনার শরীরের ডায়েটের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। ফলাহার বা ফলের পরিমাণটা হিসাবমতো করলেই চলবে। এ ক্ষেত্রে ফল একটু কমই খান না হয়।

৬।তরকারিতে পুরোপুরি ভাবেই আলু বাদঃ সব ধরনের খাবার থেকে আলু বর্জন বাঞ্ছনীয় বা বাদ দিতে হবে আপনাকে। আলুর একটা অপকারিতা হল এটি আপনার শরীরের ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে অনেকাংশে। কদিন না হয় ফ্রেঞ্চফ্রাই আর আলুর ভর্তা নাই-বা খেলেন। কদিন না হয় নাই-বা খেলেন চচ্চড়িতে, আলুর ঝোলে ভাত মাখিয়ে।

কিভাবে আপনার শরীর ডায়েট করবেন তার একটা ডায়েট চার্ট:

১. সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক কাপ হালকা গরম পানিতে লেবু চিপে খেয়ে নিন। এটা খুব ভালভাবে ফ্যাট বার্ন করে।

২.  লেবুর পানি খাউয়ার মিনিট দশেক পরে যদি পারেন এক বোতল পানি খেয়ে নিন। শরীর থেকে টক্সিন বের করবে পানি।

৩. তারও দশ মিনিট পর যদি পারেন চিনি ছাড়া এক কাপ লিকার চা খাবেন। গ্রিনটি হলে খুব ভালো। সঙ্গে থাকবে ফাইবার বিস্কিট। ক্রিমক্র্যাকার হলে খুব ভালো।

৪. আধ ঘণ্টা পর আপনি ব্রেকফাস্ট করবেন। অথবা দিনে আলাদা আলাদা ব্রেকফাস্ট করতে হবে। একদিন স্যান্ডউইচ খেলে পরের দিন কর্নফ্লেক্স খেতে হবে।

৫. ব্রেকফাস্টের ঘণ্টা দুই পর আপনি একটা গোটা আপেল বা পেয়ারা খাবেন  এতে করে আপনার কোন পুস্তিহিনতার অভাব টা পূরণ হবে।

৬. কিছুটা সমর পার করে তার দুই ঘণ্টা পর লাঞ্চ করবেন। লাঞ্চে আপনি খাবেন ৯০ গ্রাম চালের ভাত অথবা দুটো রুটি, এক পিস মাছ, দু’ ধরনের সবজি, টক দই এবং একটা গোটা শসা।

৭.  লাঞ্চ শেষ করার দুই ঘণ্টা পর আবার একটা গোটা ফল খান।

৮. বিকালে খাবেন শুধু এক কাপ চিনি ছাড়া লিকার চা এবং দুটো ক্রিমক্র্যাকার বিস্কিট।

৯.  আপনি যদি পারেন রাত সাড়ে আটটার মধ্যে ডিনার সেরে ফেলুন। এতে করে আপনার শরীরের জন্য অনেক ভাল হবে। তখন দুটো রুটি, একবাটি সবজি বা সুপ আর চিকেন খাবেন। খাবার শেষ করে অবশ্যই একটা গোটা শসা খেতে ভুলবেন না।

১০.  আপনি যদি পারেন সপ্তাহে দুই দিন একটা করে রসগোল্লা বা ডার্ক চকোলেট খেতে পারেন। আপনি এই একটা মাস কোনো মতেই জাঙ্ক ফুড বা ফাস্ট ফুড, কোল্ড ড্রিঙ্ক খাবেন না।

পরিশেষে

এ তো গেল ডায়েট এর জন্য চার্ট। এবার আসুন এক্সারসাইজ় এর দিকে। আপনাকে অবশ্যই সকালে উঠতে হবে। রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে আধ ঘণ্টা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ় করাটা জরুরি।সাইড ক্রাঞ্চ, ফ্রান্ট ক্রাঞ্চ, হিপ এক্সারসাইজ়, ব্রিদিং এক্সারসাইজ়, হ্যান্ড এক্সারসাইজ়, ইত্যাদি নিয়ম মেনে করতে হবে । রোজ বিকেলে বা সকালে আধ ঘণ্টা হাটুন। রোগা হওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না।

যদি এই ডায়েট সঠিকভাবে ফলো করতে পারেন অবশ্যই আপনি ওজন কমাতে সক্ষম হবেন। কিন্তু আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি, প্রেশার বা অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে ডায়েটটা একটু কন্ট্রোল করার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার শরীরের হিতে বিপরীত  হতে পারে।

বর্তমান যুগের তরুণ তরুণীদের মাঝে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা বেড়েছে। অনেকেই দেখা যাচ্ছে শরীরে অতিরিক্ত মেদ চর্বি দেখা দিলে চিন্তিত হয়ে পড়েন। ব্যায়াম কিংবা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কীভাবে মেদ কমাবেন, সেই উপায় খুঁজে থাকেন তারা। চিন্তার আর কোন কারণ নেই। ই হাসপাতাল আছে আপনার দের পাশে। আমরা সব বয়সি এবং সব ধরণের শারীরিক কন্ডিশনের মানুষের জন্য ডায়েট কন্ট্রোল করার প্ল্যান করেছি। এই জন্য ইহাসপাতালের ব্লগটি নিয়মিত পড়ুন। ডায়েট কন্ট্রোলের জন্য আপনার সবচেয়ে পছন্দের প্ল্যানটি বেছে নিন। এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত পরামর্শের জন্য ফোন করুন আমাদের কাছে।

একদল নিবেদিত প্রান মানুষের স্বপ্নের ফসল ই হাসপাতাল। আমাদের মূল লক্ষ হচ্ছে সকল প্রকার স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। চিকিৎসা বিষয়ক সুপরামর্শ প্রদান করা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করে দেওয়া, প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, দুর্লভ ঔষধ সমুহের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে ই হাসপাতাল।

জরুরী মুহূর্তে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য অথবা আপনার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

ইমেইলঃ support@ehaspatal.com;  ওয়েবসাইটঃ http://ehaspatal.com/

About the author

maroon

Add Comment

Click here to post a comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।